শাহরিয়ার আলম সোহাগ ও শোয়াইব উদ্দিন:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে দিন দিন বেড়েই চলেছে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা। সারাদেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। শহরের মানুষ কিছুটা মানলেও গ্রামের মানুষ একেবারেই মানছে না। করোনার ভয়বহতা সম্পর্কে অনেকের ধারণা কম। এমনই চিত্র দেখা গেছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।
সরেজমিন বুধবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, চায়ের দোকানে জনতার ভিড়। চা পানের সাথে সাথে চলছে তুমুল গল্প আর আড্ডা। স্বাস্থ্যবিধি মানার তো কোন বালাই নেই। অনেকের মুখে মাস্কও দেখা যায়নি।

উপজেলার দিনের মোড় এলাকায় কথা হয় চা দোকানে বসে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বৃদ্ধের সাথে। তিনি বলেন, প্রতিদিনি সকালে দোকানে এসে চা না খেলে কেমন জানি লাগে। মাস্ক পরেননি কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মনে থাকে না পরতে। আর এই বয়সে কি করবে করোনায়? দু’দিন পরে তো মরতেই হবে।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা গেছে, নমুনা পরীক্ষায় শহরের থেকে গ্রামাঞ্চলের মানুষ এখন করোনায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। গ্রামের সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মানলে দিন দিন সংক্রমণ বেড়েই যাবে।
এদিকে, তিনদিনের বিধিনিষেধে শুধুমাত্র রিক্সা চলাচল করার অনুমতি থাকলেও ইজিবাইক, লেগুনা ও সিএনজি চলাচল থামছে না। স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই নেওয়া হচ্ছে যাত্রী। অধিকাংশ চালক ও যাত্রীদের মুখে নেই মাস্ক।
শহর ঘুরে দেখা গেছে, ঝিনাইদহ গামী গাড়িগুলো ছাড়া হচ্ছে মেইন বাসস্ট্যান্ড টার্মিনাল থেকে, যশোর গামী বাসস্ট্যান্ড মসজিদের সামনে থেকে ও কোটচাঁদপুর গামী ইজিবাইক ও সিএনজি ছাড়া হচ্ছে বাসস্ট্যান্ড মসজিদের উত্তর পাশ থেকে। গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযানে গেলে তারা পালিয়ে যায়। পুলিশ চলে গেলে আবার আগের স্থানে ফিরে আসে ইজিবাইক, সিএনজি ও লেগুনা গাড়িগুলো। এ যেন চোর-পুলিশ খেলা।

এদিকে, মানুষের যাতায়াত ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু অভিযান পরিচালনা করেও জনস্রোত ঠেকানো যাচ্ছে না। বিভিন্ন সময় মোবাইল কোর্টও পরিচালনা করা হচ্ছে। জরিমানা করা হচ্ছে অসাধু ড্রাইভারদের। সড়কে ইউএনও ও পুলিশের গাড়ি দিয়ে ব্যারিকেড দিয়েও মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না।
কালীগঞ্জ থেকে যশোরগামী আবু হাসনাত নামে এক যাত্রী জানান, ১৫০ টাকা দিয়ে ইজিবাইকে যশোরের উদ্দেশ্যে ইজিবাইকে উঠেছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যশোর হাসপাতালে রোগী আছে। তাকে দেখতে যাচ্ছি।
আরেক যাত্রী জাকির হোসেন জানান, বারবাজারে একটা কাজে যাচ্ছি। কাজ শেষ করে আবার শহরে ফিরে আসবেন তিনি।

স্থানীয় সাংবাদিক ওসমান গনি জুয়েল জানান, শহরের ইজিবাইক, সিএনজি ও লেগুনা চলাচল নিয়ন্ত্রণ না করলে করোনা সংক্রমন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। এসকল গাড়িতে কোন স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। ঠাসাঠাসি করে বসিয়ে যাত্রী উঠানো হচ্ছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুবর্ণা রাণী সাহা জানান, বিধিনিষেধ মানাতে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, কালীগঞ্জ উপজেলায় গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ১৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে এই উপজেলায় ৮৫০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের।