নড়াইলে গত মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের প্রতিবাদে ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা ছাত্রশিবির।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নড়াইল পৌরসভার রূপগঞ্জ মসজিদের সামনে থেকে শুরু করে রূপগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাবের সামনে এসে মিছিলটি শেষ হয়। এসময় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বক্তব্য দেন নড়াইল জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সাইফুল আবদার, খিয়াম উদ্দিন, আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরান, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. হাদিউজ্জামান, সাবেক জেলা অফিস সম্পাদক জসিম উদ্দিন ও জেলা ছাত্রশিবিরের বর্তমান সভাপতি এসএম সালাউদ্দিন। এছাড়া প্রতিবাদ মিছিলে ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন স্থরের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক অফিস সম্পাদক জসিম উদ্দিন বলেন, পুলিশ ছাত্রলীগকে গ্রেফতার করে। আর একদল লোক থানায় গিয়ে তদবির করে ছাড়িয়ে আনে। যারা ছাত্রলীগকে এভাবে পুনর্বাসিত করতে চায় তারা জনগণের হৃদয় থেকে মুছে যাবে।
সাবেক জেলা সভাপতি সাইফুল আবদার বলেন, ছাত্রলীগকে মারার জন্য এখন আর চড়-লাথির প্রয়োজন নাই, একটু চাপা দিলেই শেষ হয়ে যাবে। যারা দুই হাজার মানুষ খুন করেছে, তাদের এদেশে আর রাজনীতি করার অধিকার নাই।
আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরান বলেন, তাওহিদি ছাত্রজনতার নেতৃত্বে জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে। এখন ছাত্রলীগ এদেশে নিষিদ্ধ সংগঠন। তাদের যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিতে হবে।
বর্তমান জেলা সভাপতি এসএম সালাউদ্দিন বলেন, দিল্লিতে বসে শেখ হাসিনা কূট চাল চালছে। তাদের ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় নড়াইলে ছাত্রলীগ মিছিল করেছে। এসব নিষিদ্ধ সংগঠনের জঙ্গিদের প্রতিহত করা হবে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে নড়াইল শহরের রূপগঞ্জ এলাকায় নড়াইল জেলা ছাত্রলীগের ব্যানারে ২৫-৩০ জনের একটি গ্রুপ অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে মিছিল করে। এ সময় তাদের অধিকাংশের মুখে মাস্ক এবং কয়েকজনের হেলমেট পরা ছিল। এ ঘটনার পর পুলিশ ছাত্রলীগের ৪ নেতাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নড়াইল জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হামিম ভূঁইয়া, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সবুজ সরদার, নড়াইল পৌরসভার ৭নং ওয়াড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাকিল মোল্যা ও সদরের তুলারামপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মুন্না আজিজ।
সবুজদেশ/এসইউ