ঢাকা ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাওড় দখল নিয়ে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৭

  • সবুজদেশ ডেস্ক:
  • Update Time : ০৮:০৯:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৫
  • ৪২ বার পড়া হয়েছে।

 

যশোরের চৌগাছার বেড়গোবিন্দপুর বাওড় দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুইপক্ষের সংঘর্ষে ৭ জন আহত পিস্তল সহ ২ টি মোটরসাইকেল জব্দ । ২৪ জানুয়ারি শুক্রবার দুপুর ১২ টার দিকে একটি পক্ষ বাওড়ে মাছ ধরতে যায়। এতে অন্য একটি পক্ষ বাধা দিলে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে দুটি মোটর সাইকেল একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সংঘর্ষে আহতরা হলেন হুদপাড়া গ্রামের মোবারক হোসেনের ছেলে শরিফুল (৩০), রবিউল ইসলামের ছেলে শাহদুল ইসলাম (৩০), চাদপুর গ্রামের অমির হোসেনের ছেলে কামরুল ইসলাম (৩২) পৌরসভার বিশ^াসপাড়ার মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে উজ্জল হোসেন (৪০), কুটিপাড়ার মৃত মশিয়ার রহমানের ছেলে গোলাম মোস্তফা(৬০) কারিগর পাড়ার তাইজুল ইসলামের ছেলে আব্দুস সামাদ (৫৫), যশোর সদর উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামের জহুর আলী ছেলে বিএনপি নেতা কালাম হোসেন (৫৭)। এদের মধ্যে আবুল কালামের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। এবং শরিফুল ইসলাম চৌগাছা উপজেলা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানায় যায় উপজেলার বেড়গোবিন্দপুর বাওড়টি উপজেলা মৎসজীবী লীগের সভাপতি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম সরকারি ইজারার মাধ্যমে চাষ করে আসছিল।

৫ আগষ্টের পরে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সালাহউদ্দীন ও চৌগাছা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহিমকে ২০% লাভ্য অংশ প্রদান করা শর্তে মাছ চাষ করে আবুল কাশেম। কিছুদিন পূর্বে আবুল কাশেম যশোর জেলা বিএনপি নেতা কালাম হোসেনের কাছে বাওড়ের ২০% শেয়ার বিক্রি করে দেন। কালামের নেতৃত্বে চৌগাছা বিএনপির এক পক্ষের ১৫/২০ জনকে সাথে নিয়ে শুক্রবার সকালে মাছ ধরতে যায়। এতে সালাউদ্দীন ও আব্দুর রহিমের লোকজন বাধা দেয়। একপর্যয় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে উভয় পক্ষের ৭ জন আহত হয়।

খবর শুনে ঘটনাস্থলে চৌগাছা থানার পুলিশ পৌছালে দুই পক্ষের লোকজন পালিয়ে যায়। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এক রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল ও দুটি মোটর সাইকেল উদ্ধার করে। এবং স্থানীয়দের সহযোগীতায় আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করেন।

চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোবাইল ফোনে জানান, ৫ আগষ্ট তারিখের পরে মাছ লুট হয়ে যাচ্ছিল। বাওড়ের মাছ টিকিেিয় রাখতে প্রথমে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সালাউদ্দীন ও চৌগাছা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহিমকে একটি চুক্তির মাধ্যমে সাময়িক সময়ের জন্য বাওড়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে বাওড় সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ি বিএনপি নেতা কালামের কাছে বাওড়ের ২০% শেয়ার ৬০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম বলেন, বাওড়ের যারা অঘটন ঘটিয়েছে তাদের ব্যক্তিগত ব্যপার। দল এধরনের অনৈতিক কর্মকান্ডের সাপর্ট করবে না। তিনি আরো বলেন, যারা অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত তাদের ব্যাপারে জেলায় জানানো হবে। দল তাদের ব্যাপারে সিন্ধান্দ নেবে। কারন একজন ব্যক্তির জন্য দলের বদনাম সয্য করা হবেনা।

চৌগাছা থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, বাওড়ের মাছ ধরা কে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একপক্ষের আহতদের উদ্ধার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এবং ঘটনাস্থল থেকে দুটি মোটর সাইকেল ও একরাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীণ।

সবুজদেশ/এসইউ

Tag :

বাওড় দখল নিয়ে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৭

Update Time : ০৮:০৯:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৫

 

যশোরের চৌগাছার বেড়গোবিন্দপুর বাওড় দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুইপক্ষের সংঘর্ষে ৭ জন আহত পিস্তল সহ ২ টি মোটরসাইকেল জব্দ । ২৪ জানুয়ারি শুক্রবার দুপুর ১২ টার দিকে একটি পক্ষ বাওড়ে মাছ ধরতে যায়। এতে অন্য একটি পক্ষ বাধা দিলে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে দুটি মোটর সাইকেল একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সংঘর্ষে আহতরা হলেন হুদপাড়া গ্রামের মোবারক হোসেনের ছেলে শরিফুল (৩০), রবিউল ইসলামের ছেলে শাহদুল ইসলাম (৩০), চাদপুর গ্রামের অমির হোসেনের ছেলে কামরুল ইসলাম (৩২) পৌরসভার বিশ^াসপাড়ার মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে উজ্জল হোসেন (৪০), কুটিপাড়ার মৃত মশিয়ার রহমানের ছেলে গোলাম মোস্তফা(৬০) কারিগর পাড়ার তাইজুল ইসলামের ছেলে আব্দুস সামাদ (৫৫), যশোর সদর উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামের জহুর আলী ছেলে বিএনপি নেতা কালাম হোসেন (৫৭)। এদের মধ্যে আবুল কালামের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। এবং শরিফুল ইসলাম চৌগাছা উপজেলা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানায় যায় উপজেলার বেড়গোবিন্দপুর বাওড়টি উপজেলা মৎসজীবী লীগের সভাপতি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম সরকারি ইজারার মাধ্যমে চাষ করে আসছিল।

৫ আগষ্টের পরে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সালাহউদ্দীন ও চৌগাছা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহিমকে ২০% লাভ্য অংশ প্রদান করা শর্তে মাছ চাষ করে আবুল কাশেম। কিছুদিন পূর্বে আবুল কাশেম যশোর জেলা বিএনপি নেতা কালাম হোসেনের কাছে বাওড়ের ২০% শেয়ার বিক্রি করে দেন। কালামের নেতৃত্বে চৌগাছা বিএনপির এক পক্ষের ১৫/২০ জনকে সাথে নিয়ে শুক্রবার সকালে মাছ ধরতে যায়। এতে সালাউদ্দীন ও আব্দুর রহিমের লোকজন বাধা দেয়। একপর্যয় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে উভয় পক্ষের ৭ জন আহত হয়।

খবর শুনে ঘটনাস্থলে চৌগাছা থানার পুলিশ পৌছালে দুই পক্ষের লোকজন পালিয়ে যায়। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এক রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল ও দুটি মোটর সাইকেল উদ্ধার করে। এবং স্থানীয়দের সহযোগীতায় আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করেন।

চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোবাইল ফোনে জানান, ৫ আগষ্ট তারিখের পরে মাছ লুট হয়ে যাচ্ছিল। বাওড়ের মাছ টিকিেিয় রাখতে প্রথমে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সালাউদ্দীন ও চৌগাছা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহিমকে একটি চুক্তির মাধ্যমে সাময়িক সময়ের জন্য বাওড়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে বাওড় সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ি বিএনপি নেতা কালামের কাছে বাওড়ের ২০% শেয়ার ৬০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম বলেন, বাওড়ের যারা অঘটন ঘটিয়েছে তাদের ব্যক্তিগত ব্যপার। দল এধরনের অনৈতিক কর্মকান্ডের সাপর্ট করবে না। তিনি আরো বলেন, যারা অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত তাদের ব্যাপারে জেলায় জানানো হবে। দল তাদের ব্যাপারে সিন্ধান্দ নেবে। কারন একজন ব্যক্তির জন্য দলের বদনাম সয্য করা হবেনা।

চৌগাছা থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, বাওড়ের মাছ ধরা কে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একপক্ষের আহতদের উদ্ধার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এবং ঘটনাস্থল থেকে দুটি মোটর সাইকেল ও একরাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীণ।

সবুজদেশ/এসইউ