বাগেরহাটের চিতলমারীতে দলীয় কোন্দলের সংঘর্ষে আহত কৃষক নুর ইসলাম শেখ (৪৮) মারা গেছেন। বুধবার রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত নুর ইসলাম শেখ উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের চরচিংগড়ী গ্রামের জলিল শেখের ছেলে। অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে পুলিশ এই এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, কলাতলা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে গোলাম কিবয়িরা মাস্টার ও মোস্তাফিজুর রহমান কচি গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে চরচিংগড়ী এলাকায় মোস্তাফিজুর রহমান কচির সমর্থক ও গোলাম কিবরিয়া মাষ্টারের সমর্থদের সংঘর্ষে নুর ইসলাম শেখ আহত হন। এ সময় নুর ইসলামসহ উভয় পক্ষের বহু লোক আহত হন। আহত নুর ইসলামকে প্রথমে টুঙ্গিপাড়া সেখান থেকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতাল নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। দীর্ঘ ১০ দিন মৃত্যুর সাথে সংগ্রাম করে বুধবার রাতে তিনি মারা যান। এদিকে নুর ইসলামের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম শাহাদাৎ হোসেন সর্গীয় ফোর্স নিয়ে ওই এলাকায় পুলিশের পাহারা জোরদার করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে গোলাম কিবরিয়া মাস্টারের মোবাইল ফোনে ফোন দিলে তিনি তা রিসিভ না করায় তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মোস্তাফিজুর রহমান কচি জানান, ১১ ফেব্রুয়ারী কলাতলা ইউনিয়ন ওয়ার্ড বিএনপির সম্মেলনে তার পক্ষের লোকজন জয়লাভ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এদিন দুপুরে গোলাম কিবরিয়া মাস্টারের লোকজন তার পক্ষের লোকজনকে হামলা করে আহত করে। এরপরও ওরা ক্ষ্যান্ত হয়নি। ১৬ ফেব্রুয়ারী পুনরায় কিবরিয়া মাস্টারের লোকজন হামলা করে নুর ইসলামসহ ৮-১০ জনকে আহত করে। বুধবার রাত ৮ টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) বাদ মাগরিব চিংগড়ী গ্রামে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন করার কথা রয়েছে।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম শাহাদাৎ হোসেন জানান, এ সংক্রান্ত ব্যাপারে থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। এজাহার নামীয় ২ আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।
সবুজদেশ/এসইউ