ঢাকা ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মাগুরায় জামায়াত কর্মীর বাড়িতে বিএনপি নেতার হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

  • সবুজদেশ ডেস্ক:
  • Update Time : ০৮:১৪:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫
  • ২৯ বার পড়া হয়েছে।

 

পাওনা টাকার দাবি নিয়ে মাগুরা সদর উপজেলার জোতপাড়া গ্রামে মোস্তফা কামাল নামে এক জামায়াত কর্মীর বাড়িতে বিএনপি কর্মীরা দফায় দফায় হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন। এমনকি ওই ঘটনায় আহতরা হাসপাতালে ভর্তি হলে সেখানে গিয়েও হামলা এবং মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শুক্রবার সদর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

দলীয় কর্মীর বাড়িতে হামলা ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনাকে ন্যক্কারজনক বলে নিন্দা জানিয়েছেন মাগুরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক এমবি বাকের। তিনি অবিলম্বে এ ঘটনায় জড়িতের গ্রেফতার এবং শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এলাকাবাসী জানান, মোস্তফা কামালের বোনজামাই সেলিম মোল্যা বছর দশেক আগে আল এহসান নামে একটি ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিষ্ঠানটি কয়েক বছর মাগুরায় তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিলেও স্থানীয় অনেক গ্রাহক তাদের সঞ্চিত টাকা ফেরত পাননি। এদের মধ্যে স্থানীয় হাজরাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জহিরুল ইসলাম পিয়ার বোন সামিয়ারা প্রতিষ্ঠানটির কাছে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা পাওনা রয়েছেন। বিগত সময়ে এ টাকা আদায়ে ব্যর্থ হলেও গত ৫ আগস্টের পর থেকে সামিয়ারার পরিবার টাকার জন্য আল এহসান ম্যানেজার সেলিম মোল্যার স্ত্রীর বড় ভাই জামায়াত কর্মী মোস্তফা কামালকে চাপ দিয়ে আসছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বিকালে যুবদল নেতা জহিরুল ইসলাম পিয়া, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাজুসহ বেশ কয়েকজন মোস্তফা কামালের বাড়িতে চড়াও হয়ে টাকার দাবি করেন। এ সময় মোস্তফা কামাল আগামী ১ মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রতিও দেন; কিন্তু ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার সেলিম মোল্যার বাড়িতে না গিয়ে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে টাকা দাবি করায় মোস্তফা কামালের ছোট ভাই আবদুল গফ্ফার এর প্রতিবাদ জানান। এ ঘটনার জের ধরেই বিকাল ৫টার দিকে মোস্তফা কামালের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় তারা একটি মাইক্রোবাসসহ বাড়ির দরজা জানালা ও আসবাসপত্র ভাঙচুর করে। হামলায় আহত আবদুল গফ্ফার এবং মোস্তফা কামালের মেয়ে জুঁইকে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর সন্ধ্যায় হাসপাতালে উপস্থিত হয়েও তারা দ্বিতীয় দফায় মোস্তফা কামালের ছোট ভাই আবদুল গফ্ফারের ওপর চড়াও হয়ে মারধর করে বলে জানা গেছে।

মোস্তফা কামাল বলেন, রাজু, শাকিল, ইনামুল এবং জহির, পিয়া এবং পলাশের নেতৃত্বে ২০-৩০ জন বিএনপি কর্মী হামলা চালিয়েছেন। স্বেচ্ছাসেবক দল সদস্য রাজুসহ একাধিক লোকের হাতে পিস্তল ছিল। এছাড়া ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তারা আমার বাড়িতে ভাঙচুরের পাশাপাশি অন্তত ৫০ ভরি গহনা লুট করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় সদর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা অভিযুক্ত রাজু আহমেদ বলেন, মোস্তফা কামালের বোনজামাই হাজরাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। বিগত সময়ে আল এহসানের মাধ্যমে তিনি শত শত গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা মেরে দিয়েছেন। সেই টাকার জন্যে এলাকাবাসী তাদের ওপর ক্ষুব্ধ। তারা ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার সেলিমকে না পেয়ে তার শ্বশুরবাড়িতে হামলা করেছেন।

মাগুরা সদর থানার ওসি মো. আইয়ুব আলী জানান, হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।

সবুজদেশ/এসইউ

মাগুরায় জামায়াত কর্মীর বাড়িতে বিএনপি নেতার হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

Update Time : ০৮:১৪:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫

 

পাওনা টাকার দাবি নিয়ে মাগুরা সদর উপজেলার জোতপাড়া গ্রামে মোস্তফা কামাল নামে এক জামায়াত কর্মীর বাড়িতে বিএনপি কর্মীরা দফায় দফায় হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন। এমনকি ওই ঘটনায় আহতরা হাসপাতালে ভর্তি হলে সেখানে গিয়েও হামলা এবং মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শুক্রবার সদর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

দলীয় কর্মীর বাড়িতে হামলা ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনাকে ন্যক্কারজনক বলে নিন্দা জানিয়েছেন মাগুরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক এমবি বাকের। তিনি অবিলম্বে এ ঘটনায় জড়িতের গ্রেফতার এবং শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এলাকাবাসী জানান, মোস্তফা কামালের বোনজামাই সেলিম মোল্যা বছর দশেক আগে আল এহসান নামে একটি ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিষ্ঠানটি কয়েক বছর মাগুরায় তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিলেও স্থানীয় অনেক গ্রাহক তাদের সঞ্চিত টাকা ফেরত পাননি। এদের মধ্যে স্থানীয় হাজরাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জহিরুল ইসলাম পিয়ার বোন সামিয়ারা প্রতিষ্ঠানটির কাছে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা পাওনা রয়েছেন। বিগত সময়ে এ টাকা আদায়ে ব্যর্থ হলেও গত ৫ আগস্টের পর থেকে সামিয়ারার পরিবার টাকার জন্য আল এহসান ম্যানেজার সেলিম মোল্যার স্ত্রীর বড় ভাই জামায়াত কর্মী মোস্তফা কামালকে চাপ দিয়ে আসছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বিকালে যুবদল নেতা জহিরুল ইসলাম পিয়া, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাজুসহ বেশ কয়েকজন মোস্তফা কামালের বাড়িতে চড়াও হয়ে টাকার দাবি করেন। এ সময় মোস্তফা কামাল আগামী ১ মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রতিও দেন; কিন্তু ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার সেলিম মোল্যার বাড়িতে না গিয়ে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে টাকা দাবি করায় মোস্তফা কামালের ছোট ভাই আবদুল গফ্ফার এর প্রতিবাদ জানান। এ ঘটনার জের ধরেই বিকাল ৫টার দিকে মোস্তফা কামালের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় তারা একটি মাইক্রোবাসসহ বাড়ির দরজা জানালা ও আসবাসপত্র ভাঙচুর করে। হামলায় আহত আবদুল গফ্ফার এবং মোস্তফা কামালের মেয়ে জুঁইকে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর সন্ধ্যায় হাসপাতালে উপস্থিত হয়েও তারা দ্বিতীয় দফায় মোস্তফা কামালের ছোট ভাই আবদুল গফ্ফারের ওপর চড়াও হয়ে মারধর করে বলে জানা গেছে।

মোস্তফা কামাল বলেন, রাজু, শাকিল, ইনামুল এবং জহির, পিয়া এবং পলাশের নেতৃত্বে ২০-৩০ জন বিএনপি কর্মী হামলা চালিয়েছেন। স্বেচ্ছাসেবক দল সদস্য রাজুসহ একাধিক লোকের হাতে পিস্তল ছিল। এছাড়া ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তারা আমার বাড়িতে ভাঙচুরের পাশাপাশি অন্তত ৫০ ভরি গহনা লুট করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় সদর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা অভিযুক্ত রাজু আহমেদ বলেন, মোস্তফা কামালের বোনজামাই হাজরাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। বিগত সময়ে আল এহসানের মাধ্যমে তিনি শত শত গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা মেরে দিয়েছেন। সেই টাকার জন্যে এলাকাবাসী তাদের ওপর ক্ষুব্ধ। তারা ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার সেলিমকে না পেয়ে তার শ্বশুরবাড়িতে হামলা করেছেন।

মাগুরা সদর থানার ওসি মো. আইয়ুব আলী জানান, হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।

সবুজদেশ/এসইউ