ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের জয়দিয়া বাওড়ের অফিস, গোডাউন ও মাছ ধরার নৌকা পোড়ানো মামলায় তিনজনকে আটক করেছে মডেল থানা পুলিশ। বুধবার সকালে তাদেরকে ছাড়াতে থানা চত্বরে অবস্থান নেন হালদার সম্প্রদায়ের শতাধিক নারী পুরুষ। পরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের আশ্বাসে বাড়ি ফেরেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, বাওড় মৎসবীজি আন্দোলনের ব্যানারে বাওড়ের ইজারা বাতিল ও বাওড় ফেরতের দাবিতে দুই বছর যাবৎ আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছিলেন হালদার সম্প্রদায়ের মানুষেরা। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে কোটচাঁদপুর জয়দিয়া বাওড় পাড়ে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেন তারা। এ সময় বাওড়ের ইজারাদার ও ইজারাদারের লোকদের সঙ্গে তাদের বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায় বিক্ষোভ কারীরা মিছিল সহকারে হামলা চালান ইজারাদারের উপর। অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেন বাওড়ের ইজারাদারের অফিস, খাবার রাখার গোডাউন ও মাছ ধরার নৌকা। ওই ঘটনায় গুরুতর আহত হন ইজারাদার রঞ্জিত হালদার। পরে তিনি কোটচাঁদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা নিয়ে থানায় ১৭ জনের নামে মামলা করেন। এ ছাড়া ওই মামলায় আরো ৫০/৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করেন তিনি।
মামলার সুত্রে মঙ্গলবার রাতে লক্ষিকুন্ড গ্রামে অভিযান চালায় থানা পুলিশ। আটক করেন ওই মামলার আসামি আলম হোসেন, সমির হোসেন ও চান্দা ইসলাম কে।
বুধবার সকালে তাদেরকে ছাড়াতে থানায় অবস্থান নেন জয়দিয়া বাওড় পাড়ের শতাধিক নারী পুরুষ। একপ্রকার তারা থানা চত্বরে বসে পড়েন। এ সময় তারা বলেন, আসামিদের ছেড়ে দাও, দিতে হবে, না হলে তাদের সঙ্গে আমাদের সবাইকে চালান দিতে হবে।
এ বিষয়ে জয়দিয়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি শীতল হালদার বলেন, বাওড় ফেরত পেতে আন্দোলন করেছি আমরা। তারা আমাদের পক্ষে কথা বলায় মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। আমরা তাদেরকে থানা থেকে নিতে এসেছি। আসামি না দিলে আমরাও স্বেচ্ছায় কারাবরণ করবো।
চন্ডি হালদার বলেন, পুলিশ যাদের ধরে নিয়ে এসেছে তারা কোন অপরাধী না। ইজারাদার তাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। তাদের দোষ তারা আমাদের পক্ষে কথা বলেছেন। আমরা তাদের থানা থেকে ছাড়াতে এসেছি।
এ সময় থানায় আসেন কোটচাঁদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত হোসেন ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান একরামুল হক। নেতৃবৃন্দ কথা বলেন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে। এরপর বিষয়টি তাদেরকে বুঝিয়ে বললে থানা চত্বর ছাড়েন তারা।
কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, মঙ্গলবার সকালে জয়দিয়া বাওড়ের অফিস, খাবার রাখা ঘর, নৌকা পুড়িয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। তাদের হামলায় আহত হন ইজারাদার। এরপর তিনি থানায় এসে মামলা করেন। ওই মামলায় তিনজনকে আটক করা হয়। তাদেরকে ছাড়ার দাবিতে শতাধিক হালদার সম্প্রদায়ের মানুষ থানায় আসেন। পরে নেতৃবৃন্দের কথায় বাড়িতে ফিরে যান তারা। এরপর আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সবুজদেশ/এসএএস