বিশেষ প্রতিনিধি:
গত ৬ মাস আগে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রবেশমুখে নির্মাণ করা হয়েছে অত্যাধুনিক গেট। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি রং ও টাইলস দিয়ে বেশ পরিপাটি। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতি জ্বালিয়ে করা হয় ইসিজি। সেটিও সাময়িক বন্ধ। জেনারেটর নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। লোডশেডিং বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগীরা নিজেরা মোমবাতি কিনে আলোর ব্যবস্থা করেন। এক্সরে হয় না প্রায় এক যুগ, জনবল সংকটে চালু নেই আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন।
এমনই চিত্র ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। এ যেন বাইরে ফিটফাট, ভিতরে বেহাল অবস্থা।

তথ্য নিয়ে জানা গেছে, প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করা হয় না এক্স-রে। দুর্ঘটনায় আহত কোন ব্যক্তিকে নিয়ে আসলে পার্শ্ববর্তী কোন ডায়াগনোস্টিক সেন্টার অথবা অন্যত্র রেফার্ড করা হয়। জনবল সংকটে আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও তা পড়ে থেকে অকেজো হয়ে গেছে। জেনারেটরও দীর্ঘদিন অকেজো হয়ে পড়ে আছে। আইপিএস দিয়ে বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকলে তা পর্যাপ্ত নয়। এদিকে, হাসপাতালটিতে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত রোগীদের জন্য ১৬টি আইসোলেশন বেড আছে। ২০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুদ আছে। যা আক্রান্ত রোগীর তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। এছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ৯ জন কনসালটেন্টের বিপরীতে আছেন মাত্র ২ জন।

এদিকে, লোডশেডিং ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভোগান্তিতে পড়তে হয় রোগী ও স্বজনদের। অন্ধকার ঘোচাতে নিজেরা মোমবাতি কিনে আলোর ব্যবস্থা করেন। গত ৯ জুন বজ্রপাতে আহত হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছিলেন মহেশ্বরচাঁদা গ্রামের মোহাম্মদ আলী। বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতি জ্বালিয়ে করা হয় ইসিজি। এছাড়াও হাসপাতালে কর্মরত নার্সদের ব্যবহারে ক্ষুব্ধ রোগীর স্বজনেরা।
সরেজমিনে হাসপাতালটিতে গিয়ে দেখা যায়, এক্স-রে কক্ষটিতে তালা দেওয়া। এছাড়াও আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন জনবল সংকটে ব্যবহার না করায় অকেজো হয়ে পড়ে আছে। পড়ে গিয়ে কোমরে আঘাতপ্রাপ্ত এক রোগী এসেছিলেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে। এক্স-রে মেশিন নষ্ট থাকায় সেই রোগীকে অন্যত্র করা হয় রেফার্ড।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি সুত্র জানায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উন্নয়ন নিয়ে একটি স্বাস্থ্য কমিটি আছে। প্রায় প্রতিমাসেই জেনারেটর মেরামত ও তেল বাবদ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং মাসিক সভায় সেটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
মৃত্যুঞ্জয় ঘোষ নামে এক রোগীর স্বজন সবুজদেশ নিউজকে বলেন, এ হাসাপাতালে কর্মরত নার্সদের ব্যবহার খুবই খারাপ। কোন প্রয়োজনে তাদের ডাকলে খুব রুঢ় ভাষায় কথা বলেন। যা চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের জন্য দুঃখজনক।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমা শিরিন এ প্রতিবেদককে জানান, এ সকল বিষয়ে আপনি আরএমও এর সাথে যোগাযোগ করুন। উনি আপনাকে সব তথ্য দিবে।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. এস.এম আহসান হাবীব সবুজদেশ নিউজকে জানান, দীর্ঘদিন এক্স-রে বন্ধ আছে। এর আগের মেশিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন অত্যাধুনিক মেশিন এসেছে। করোনার জন্য এক্স-রে মেশিন স্থাপন করা দেরি হচ্ছে। টেকনিক্যাল টিম এসে এক্স-রে মেশিন স্থাপন করার কথা রয়েছে।

তিনি আরো জানান, সরকারের পক্ষ থেকে কখনো জেনারেটর বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। বিকল্প বিদ্যুতের জন্য আইপিএসের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। রোজার ঈদের দুই দিন আগে ইসিজি করা কার্ডিওগ্রাফার মারা যাওয়ায় বর্তমানে ইসিজি করা বন্ধ আছে। আল্ট্রাসনোগ্রামের মেশিন আছে কিন্তু এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোন সনোলজিস্ট পদ নেই।