কালীগঞ্জে যৌতুকের কারণে গৃহবধুকে শিকলে আটকানোর ঘটনায় আটক ২
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে যৌতুকের কারণে গৃহবধুকে শিকল দিয়ে আটকিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। গত সোমবার থেকে তানিয়াকে শিকল দিয়ে বেঁধে আটকিয়ে নির্যাতন করে শশুরবাড়ির লোকজন। এরপর গতকাল মঙ্গলবার পুলিশ গৃহবধু তানিয়াকে উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে গৃহবধু তানিয়ার বাবা রিপন গাজী বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ রাতে মামলার দুই আসামিকে আটক করেছে।
আটককৃতরা হলেন- তানিয়ার শাশুড়ি মাহমুদা খাতুন ও তার ননদ রুমি খাতুন। কিন্তু মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে এখনো আটক করতে পারেনি পুলিশ।
মেয়ের বাবা একই উপজেলার মঙ্গলপৈতা গ্রামের রিপন গাজি জানান, তানিয়ার ৩ মাসের শিশুসহ দুইটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে জামাই সোহেল রানা তার মেয়েকে প্রায়ই যৌতুকের জন্য মারধর করতো। যে কারনে মেয়ের ভালো চেয়ে কয়েক দফায় বেশ কিছু টাকাও দিয়েছেন। কিন্ত যৌতুক লোভী জামাই ও তার পরিবারের লোকজনের আচরনের কোন পরিবর্তন হয়নি। বরং তানিয়াকে আবার টাকা আনতে বলে। এতে সে রাজি না হওয়ায় গত ৬ জানুয়ারি সকালে তানিয়াকে মারধর করে পায়ে শিকল দিয়ে তালাবদ্ধ ঘরে আটকিয়ে রাখে। খবর পেয়ে পরের দিন সকালে জামাই বাড়ি গেলে তাকেও মারধর করে জামাইসহ বাড়ির লোকজন।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম জানান, কোন এক গৃহবধুকে পায়ে শিকল বেঁধে আটকে রাখা হয়েছে শুনে তিনি পুলিশ পাঠিয়েছিলেন। তারা ঘটনাস্থল থেকে গৃহবধু তানিয়াকে পায়ে শিকল বাঁধা ও তার বাবা রিপন গাজিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। এ ঘটনায় নির্যাতিত তানিয়ার বাবা রিপন গাজি বাদি হয়ে কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে।
আরো পড়ুন: যৌতুকের শিকলে আটকা কালীগঞ্জের গৃহবধু তানিয়া
সবুজদেশ/এসএএস